Description
ডাকিনীদের অগোচর দশা। এঁরা যাঁদেরকে ধরা দেবেন তাঁরা টের পাবেন সিদ্ধাই। পদ্মাসনে রাতের প্রগাঢ় দশাতে করতে হয় ডাকিনী সাধনা। যোগিনী, যক্ষিণীরাও অন্ধকারে নেমে আসেন। এঁরা মাধ্যম। এঁদের মাধ্যমে মানুষের কামনা বাসনা মেটানোর কাজ করা হয়। এগুলো তন্ত্রের কলাবিদ্যা। পূর্ণিমার রাতে হয় কিন্নরীবিদ্যার প্রয়োগ। ভারতীয় অনেক ঋষি, মুনি, মহাত্মা, আচার্যরা ডাকিনীবিদ্যা জানতেন। যক্ষ, কিন্নর, গন্ধর্ব, অপ্সরা, বিদ্যাধর; এঁরা সকলেই উপদেবতা। যাঁরা কলাকার তাঁরা যদি আত্মিক উন্নতির জন্য সাধনরত হন, উপদেবতাদের সাহায্য লাভ করতে পারেন। ‘ডাকিনীর গড়’ বইটিতে রয়েছে ডাকিনী, যক্ষিণী, গন্ধর্ব, অপ্সরা, যক্ষ, কিন্নর, গান্ধবী ও যোগিনীসিদ্ধাদের কথা। এঁদের কেউ থাকেন রাজরাপ্পা, কেউ নর্মদার তীর, কারও আবাস হিমালয়ের গুহায়, কেউ কাশীবাসী, কারও আস্তানা প্রাচী উপত্যকায়, কেউ গভীর জঙ্গল চিকনা ঝাড়ে বাস করেন। ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে ডাকিনী, যক্ষিণী, যোগিনী, অপ্সরা, কিন্নর, গন্ধর্বদের মন্দির ও সাধন সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস ও সাধনা নিরিখে ডাকিনী, যক্ষিণী, যোগিনী, গন্ধর্ব, অপ্সরা, কিন্নরবিদ্যার সাধক সাধিকাদের নিয়ে তেমন বইয়ের হদিশও মেলে না। ‘ডাকিনীর গড়’ সেই অভাব পূরণ করবে। ডাকিনীতন্ত্র, গন্ধর্বতন্ত্র, যক্ষিণী মণ্ডলা, ভূতিনী সাধন, যোগিনী কৌল, সর্বান্নায়তন্ত্র, জল চিকিৎসা, যষ্ঠিতন্ত্র, শব্দ চিকিৎসা, মায়াবীবিদ্যা সহ অতীব গুপ্ত ডাকবিদ্যার বৃত্তান্ত ছড়িয়ে রয়েছে তেইশটি পর্বে লেখা দীর্ঘ আখ্যানের ভেতর। পরিশিষ্টে যুক্ত রয়েছে ডাকিনী মা – গুরুর চিঠিপত্র ও ডাকিনী সাধন সম্পর্কিত উপদেশ। ‘ডাকিনীর গড়’ ভারতবর্ষের ডাকিনী কাল্টের অনন্য এক নিদর্শন।




