Description
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ষাটের দশকের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গড়ে উঠতে শুরু করেছিল ব্যাঙের ছাতার মতো অসংখ্য ভুঁইফোঁড় বেআইনি স্বল্প সঞ্চয় প্রতিষ্ঠান। সাধারণ ছাপোষা মানুষের ব্যক্তিজীবনে ভবিষ্যতের কথা ভেবে রক্ত জল করা অর্থ একটু একটু করে সঞ্চয়ের ইচ্ছা কার না থাকে আর তারই সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি মেয়াদ শেষে অধিক অর্থের মুনাফার টোপ সোনার বড়শিতে গেঁথে ডাঙায় তুলতে থাকে ওইসব অসহায় মানুষগুলিকে। তারপর এক সময় সুযোগ বুঝে পাততাড়ি গুটিয়ে ধা। বলাই বাহুল্য, শাসক কিংবা বিরোধী– যে-কোনো দলের তাবড় নেতানেত্রীর আশীর্বাদ আর অঙ্গুলি হেলন ভিন্ন কি আর এত কাণ্ড ঘটা সম্ভব! তেমনই একটি সংস্থায় জড়িয়ে পড়ে বিধবা মাকে নিয়ে অসহায় একমাত্র কন্যাসন্তান পারমিতা। যার পেছনে রয়েছে ছেলেবেলা থেকে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা প্রেমিক এক রাজনৈতি নেতার ডান হাত রঞ্জনের চেষ্টা। স্বাভাবিক ভাবেই সেই নেতার কাছের লোক হিসাবেই ওই সংস্থার কর্ণধার ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে নিয়েছিল তার ব্যবসা। অন্যদিকে দারিদ্র্যের বিভীষিকা থেকে মুক্তি পেতে, একটু স্বচ্ছন্দে বেঁচে থাকার লোভে এক সময় পারমিতা হয়ে ওঠে কর্ণধারের বাহু সঙ্গিনী বকলমে সংস্থার সেকেন্ড লেডি। রাজনৈতিক কারণেই রঞ্জনের সঙ্গে কমতে থাকে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। কিন্তু দুজনের মধ্যেই ফল্গু নদীর মতোই বেঁচে থাকে প্রেম, স্বপ্ন, আবেগ– মনে হয় যেন একে অপরকে ছুয়ে আছে সর্বক্ষণ। তারপর যা হবার তাই। পাপ যে বাপও ছাড়ে না! জনগনের অর্থ তছরুপের দায়ে ধরা পড়ে সেই কর্ণধার। সঙ্গে পারমিতা। রাজনীতি আর ব্যক্তিস্বার্থের নির্মমতা এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয় এদের নিস্তরঙ্গ ভালোবাসা। পাওয়া আর না-পাওয়ার অবিরাম আকাঙ্ক্ষায় প্রকৃত জীবনটাই হারিয়ে যায় গুলিয়ে ফেলা পথের গোলক ধাঁধায়। আটকে পড়ে রঙিন কোনো চক্রব্যূহে। এভাবেই এক সময় শেষ হবে যায় রঞ্জনের মতো কত অভাগা যুবকের জীবন। পারমিতার প্রেম বন্দি হয়ে যায় রাষ্ট্রের কারাগারে…। কিন্তু বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকে সেইসব লোভসর্বস্ব মুখগুলো, যাদের হাতে লেগে থাকে রঞ্জন-পারমিতার প্রেমহত্যার রক্তের রং। কিন্তু কারা তারা?




